Type Here to Get Search Results !

পণ্ডিতপ্রবর জ্যোতির্ময় নন্দের জ্যোতির্ময় রচনাঞ্জলি' অমৃতকথা

পণ্ডিতপ্রবর জ্যোতির্ময় নন্দের জ্যোতির্ময় রচনাঞ্জলি' অমৃতকথা

চরিত্রগঠন ছাড়া সাধনায় উন্নতি হয় না। কি অপরা, কি পরা বিদ্যা উভয় ক্ষেত্রেই চরিত্রের উৎকর্য একান্ত আবশ্যক। অসচ্চরিত্র ব্যক্তির ব্যবহারিক ক্ষেত্রে যশ উন্নতি বা সাফল্যের সম্ভাবনা নাই। যদিও প্রতারণার দ্বারা তাসহ ব্যক্তির সাময়িক উন্নতি কখনও কখনও দেখা যায়। আর চরিত্র বিশুদ্ধ না হইলে কখনও পারমার্থিক ক্ষেত্রে ঈশ্বর ভজনের সুফল লাভ হয় না। এইজন্য অধ্যয়নার্থীদের বিদ্যাশিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গরিত্রের অনুলিন একান্ত আবশ্যক। গৃহে অভিভাবক, সমাজের হিতৈষী ব্যক্তি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, রাষ্ট্রের নায়কগণ ও ছাত্রছাত্রীরা নিজে নিজে এই সকলেরই তত্ত্ব দৃষ্টি থাকা উচিত, যাহাতে বাল্যকাল হইতেই পুত্রকন্যাগণ সচ্চরিত্রগঠনের জন্য শিক্ষালাভ করিতে পারে। বিদ্যালয়ে বেশ শিক্ষালাভ হইল এবং উচ্চপদে নিয়ােগের দ্বারা প্রভূত অর্থ অর্জনও হইল, অথচ চরিত্রগঠন হইল

, ইহাতে ব্যক্তিগত জীবনে বা সমাজের কোনও মঙ্গলের আশা নাই। পরন্তু বুদ্ধি প্রখর আছে, অথচ ইচ্ছাশক্তি অসতের প্রতি ধাবমান—তাহাতে অকল্যাণ অবশ্যম্ভাবী। বরং অধিক বিদ্যালাভের সুযােগ ঘটে নাই, অথচ চরিত্রটি বিশুদ্ধ, এইরূপ ব্যক্তির দ্বারা সমাজের প্রভূত স্থায়ী কল্যাণ হইবেই। সুতরাং সর্বপ্রকার বিদ্যার মধ্যে সচ্চরিত্রের বিদ্যাই শ্রেষ্ঠ। শাস্ত্রে শুভ্র বর্ণটি সত্ত্ব গুণ, যশঃ, কলঙ্কহীনতা, পবিত্রতা ও শুচিশুদ্ধ ভাবের চিহ্ন। বিদ্যাদায়িন সরস্বতীও সর্বশুক্লা। তাহার দেহকান্তি, আভরণ ও হংসবাহন সবই শুরু। সচ্চরিত্র ও বিদ্বান হইবার আকাঙ্ক্ষায় শ্রদ্ধার সহিত সারস্বত সাধনা করিলে নিশ্চয়ই তিনি সাধককে বিদ্বান, জ্ঞানী ও সচ্চরিত্র হইবার শক্তি দান করেন। তাহার কৃপায় দেহ, মন, বুদ্ধি, বাক্য, আচার সবই পবিত্র হয়। জ্ঞানালােকে মনের অজ্ঞান অন্ধকার দূর হইলে মানুষ বহু সদগুণে ভূষিত হয় এবং নিঃস্বার্থ জনসেবা করিয়া ধন্য হয়। বাগদেবতার কৃপায় অপরা বিদ্যা লাভের সঙ্গে পরা বিদ্যা, অর্থাৎ ঈশ্বরভক্তি ও ব্রহ্মজ্ঞান লাভের পথ সুগম হয়।।

বেদ, বেদাঙ্গ, বেদান্তাদি, দর্শনসহ সমস্ত শাস্ত্রগ্রন্থই সরস্বতীর বাগ্মী মূর্তি। লােকমঙ্গলকর গ্রন্থসমূহই সরস্বতীর প্রধান মূর্তি এবং গ্রন্থাগারই দেশের সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ। গুরুর উপদেশ ও নিজের সাধনাসহ গ্রন্থ অনুশীলনের দ্বারাই জ্ঞানবিজ্ঞানাদি—সকল ক্ষেত্রে কৃতীরা ইহলােকে সচ্চরিত্র, দেবমানব ও সমৃদ্ধিশালী হয়। কিন্তু কেবল সরস্বতীর প্রতিমূর্তি আনিয়া প্রাণহীন পূজায় বিভাের হইলে কোনও লাভ নাই। গুরু ও গ্রন্থের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকিলে জ্ঞানলাভ হয় না। “শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ'—গীতা। শিক্ষক ও গ্রন্থের কথার প্রতি শ্রদ্ধাসহ গ্রন্থের অনুশীলনে লাগিয়া থাকিতে হইবে। ইন্দ্রিয়সংযম করিয়া সচ্চরিত্রও হইতে হইবে। তবেই জ্ঞানলাভ হইবে। “গ্রন্থী ভবতি পণ্ডিত” —কেবল আদরের সহিত গ্রন্থ সংরক্ষণের দ্বারা গ্রন্থের সংসর্গে পণ্ডিত হওয়া যায়। শ্রীপঞ্চমীতে মা সরস্বতীর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন সর্বদা সঙ্গে থাকিয়া অজ্ঞান দুর। করেন এবং সকল শাস্ত্রে বিদ্যাদান করেন। পণ্ডিতপ্রবর জ্যোতির্ময় নন্দের জ্যোতির্ময় রচনাঞ্জলি' থেকে


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad