Type Here to Get Search Results !

পণ্ডিত প্রবর জ্যোতির্ময় নন্দ জ্যোতির্ময় রচনাঞ্জলি’অমৃতকথা

পণ্ডিত প্রবর জ্যোতির্ময় নন্দ জ্যোতির্ময় রচনাঞ্জলি’অমৃতকথা

ভারতের আত্মদর্শন

পুণ্যভূমি ভারতবর্ষের গৌরবময় অতি প্রাচীন সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মহিমায় আকৃষ্ট হইয়া প্রতীচ্যের মনীষিগণ বিস্মিত হইয়াছেন ও হইতেছেন, কিন্তু আমাদের ভারতীয় ও জাতীয়তার বােধ ক্রমেই হ্রাস পাইতেছে মনে হয়। ভারতের আর্য ঋষির বংশধর বলিয়া পরিচয় দিতে অনেকেরই সঙ্কোচ আসে এবং প্রাদেশিকতাবর্জিত ও সর্বভাষার প্রসূতি বিশ্ববরেণ্যা ভারতপ্রাণ সংস্কৃত ভাষার প্রতি অনেকের অনুরাগের অভাব পরিলক্ষিত হয়। পৃথিবীর প্রত্যেক বিবেকী ব্যক্তির পক্ষে স্বদেশ ও স্বভাষার প্রতি শ্রদ্ধাযুক্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে ভারতের জাতীয়তা ও অন্য দেশের জাতীয়তার মধ্যে বিরাট এক পার্থক্য বর্তমান। ভারতের জাতীয় ভাবের মধ্যে আছে বিশ্বাত্মবােধ, বিশ্বপ্রেম ও ঐক্যের সন্ধান। সর্বভূতে একই পরমাত্মার দর্শন এবং সমগ্র জগতের অধিবাসীকে এক পরিবারভুক্ত চিন্তন ভারতাত্মার মহতী বাণী। অন্য দেশকে পরাজিত করিয়া এবং সেই দেশবাসী নরনারীকে নৃশংস অত্যাচারে জর্জরিত ও নিহত করিয়া লুণ্ঠিত সম্পদে নিজের শক্তি বৃদ্ধিকে ভারতবর্ষ ঘৃণা করে। বিশ্বের সকল দেশের সহিত সৌভ্রাত্রে আবদ্ধ থাকিয়া পরস্পর সহানুভূতি ও শুভকর্মে সহযােগিতাই ভারতের চিরন্তন

নীতি। প্রতীচ্যের বহু দেশ এবং তাহাদের প্রেরণায় দ্বিখণ্ডিত ভারতের | পার্শ্ববর্তী দেশের ধংসাত্মক যে সকল অমঙ্গল ও ভয়াবহ আচরণ পূর্ব হইতে।

দৃষ্ট হইয়া আসিতেছে এবং সম্প্রতি দৃষ্ট হইল তাহার বিশদ বর্ণনা বাহুল্য মাত্র। মধ্যে মধ্যে যদি কিছু বিশ্বপ্রীতি, ধর্মনিরপেক্ষতা, সহাবস্থান এবং এই জাতীয় ভাল ভাল নীতিকথা ঐ দেশগুলি হইতে শুনা গিয়াছে ও যাইতেছে তাহাও ভারত-জননীর সৎসঙ্গ, শিক্ষা ও প্রচারের প্রভাবে। মনুষ্যত্ব, আদর্শ কর্মজীবন ধর্মজীবন এবং অধ্যাত্মজীবন বিষয়ে ভারতই পৃথিবীর গুরু। ভারতকে জানার, অর্থই বিশ্ব ও বিশ্বাত্মাকে জানা। ভারতের জাতীয়তা পৃথিবীর সকল দেশ ও সকল অধিবাসীকে লইয়া। ইহার মধ্যে নীচ স্বার্থপরতা নাই, জিঘাংসা নাই, প্রতারণা নাই, আছে এক উদার ও পবিত্র বিশ্বজনীন ভাব। বিশ্বের প্রত্যেকটি মানব-মানবীকে স্বর্গীয় অধ্যাত্ম জ্যোতিঃ দিয়া ‘আর্য’ করাই ভারত ঋষির সাধনা। বহিরাগত অনেক জাতি ভারতে আসিয়া ভারতমাতার অঙ্গীভূত হইয়াছে এবং অনার্যগণের সভ্যতার যাহা কিছু ভাল আর্যগণ তাহা আত্মসাৎ করিয়া লইয়াছেন। এই ভারতবর্ষের ‘মহামানবের সাগরতীরে অতি প্রাচীনকাল হইতে এইরূপ ‘সত্যং শিবং সুন্দর ও ‘শান্তং শিবমদ্বৈতম’ পরম প্রভুর কত লীলাখেলা চলিয়া আসিতেছে। এই স্থলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তি প্রণিধানযােগ্য—“এককে বিশ্বের মধ্যে ও নিজের আত্মার মধ্যে অনুভব করিয়া সেই এককে বিচিত্রের মধ্যে স্থাপন করা, জ্ঞানের দ্বারা আবিষ্কৃত করা, কর্মের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করা, প্রেমের দ্বারা উপলব্ধি করা এবং জীবনের দ্বারা প্রচার করা—নানা বাধাবিপত্তি সুগতি দুর্গতির মধ্যে ভারতবর্ষ ইহাই করিয়াছে।” পণ্ডিতপ্রবর জ্যোতির্ময় নন্দের জ্যোতির্ময় রচনাঞ্জলি’ থেকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad