Type Here to Get Search Results !

স্বামী রঘুবরানন্দের ‘গুরুতত্ত্ব ও গুরুগীতা’ অমৃতকথা

স্বামী রঘুবরানন্দের ‘গুরুতত্ত্ব ও গুরুগীতা’ অমৃতকথা

কোন রাজার এক সময়ে সংসারের উপর বৈরাগ্য হয়। তিনি শুনিয়াছিলেন, পরীক্ষিৎ সাতদিন ভাগবত শুনিয়া জ্ঞান লাভ করিয়াছিলেন। তিনি নিকটবর্তী এক সুপণ্ডিতকে আনাইয়া ভাগবত শুনিতে আরম্ভ করিলেন। দুই মাস কাল নিত্য শ্রীমদ্ভাগবত শুনিয়াও কিছুমাত্র তত্ত্বজ্ঞান হইল না। ব্রাহ্মণকে বলিলেন, পরীক্ষিতের সাত দিন মাত্র ভাগবত শুনিয়া তত্ত্বজ্ঞান লাভ হইয়াছিল আর দুই মাস শ্রবণ করিয়াও আমার কেন হইল না। ইহার উত্তর যদি আপনি কল্য না দিতে পারেন, তবে আপনি অর্থাদি কিছুই পাইবেন না। ব্রাহ্মণ রাজার ঘােরতর অসন্তোষ আশঙ্কায় অতিশয় বিষন্নচিত্তে গৃহে ফিরিলেন। ঐ প্রশ্নের উত্তর ভাবিয়া চিন্তিয়া কিছুই স্থির করিতে পারিলেন না।

তখন তিনি অতিশয় কাতর হইয়া গালে হাত দিয়া আকাশ পাতাল ভাবিতে লাগিলেন। তাঁহার এক বুদ্ধিমতী পিতৃভক্তিপরায়ণা কন্যা ছিল। সে পিতাকে এইরূপ বিষন্ন। দেখিয়া পুনঃ পুনঃ কারণ জিজ্ঞাসা করাতে অগত্যা অপত্যস্নেহে বাধ্য হইয়া তাহাকে তাঁহার বিষাদের কারণ বলিতে হইল। কন্যা হাসিতে হাসিতে বলিল, ‘পিতা, আপনি কিছুমাত্র ভাবিবেন না, আমি কাল রাজাকে ইহার জবাব। দিব’। পরদিন কন্যা সমভিব্যাহারে পণ্ডিত মহাশয় রাজসভায় উপস্থিত হইয়া বলিলেন, “আমার কন্যা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিবে। কন্যা কহিল, ‘প্রশ্নের উত্তর পাইতে হইলে আমি যাহা বলিব, আপনাকে তাহা শুনিতে হইবে।

রাজা স্বীকৃত হইলে ব্রাহ্মণকন্যা প্রহরীদিগকে বলিল, ‘একটি থামে আমাকে ও অপর থামে রাজাকে বাঁধাে’। রাজার আদেশে প্রহরীরা তাহাই করিল। তখন কন্যা রাজাকে বলিল, ‘রাজন! আপনি আমার বন্ধন শীঘ্র মােচন করিয়া দিন। রাজা বলিল, ‘এ কি অসম্ভব কথা বলিতেছ! আমি নিজে বদ্ধ, তােমার বন্ধন কিরূপে মােচন করিব’? তখন কন্যা হাসিয়া বলিল, ‘রাজন! এই আপনার প্রশ্নের উত্তর। রাজা পরীক্ষিৎ মুমুক্ষু শ্রোতা, আর বক্তা সাক্ষাৎ শুকদেব, যিনি সর্বত্যাগী ব্ৰহ্মপরায়ণ মহাজ্ঞানী। তাঁহার নিকট ভাগবত শুনিয়া রাজা পরীক্ষিতের জ্ঞান লাভ হইয়াছিল। আর আমার পিতা নিজের সংসারাসক্ত, অর্থের লােভে আপনার নিকট শাস্ত্র ব্যাখ্যা করিতেছে।

তাঁহার মুখে শুনিয়া আপনার কিরূপে জ্ঞান লাভ হইবে?’ " এই উপদেশপূর্ণ গল্পটি দ্বারা বুঝা যাইতেছে, সদ্গুরুর উপদেশ ব্যতীত কখনও বন্ধন মােচন হইবার সম্ভাবনা নাই।। । এ প্রসঙ্গে আর দুইটি কথা সচরাচর শুনা যায়। কেহ কেহ বলেন, শিষ্য যে রকমই হউক না কেন, সদগুরু লাভ হইলে তাহার মুক্তি অবশ্যম্ভাবী। আবার। কেহ বা বলেন, গুরু যেরূপই হউক না কেন, শিষ্যের ভক্তি ও শ্রদ্ধা থাকিলে মুক্তিলাভ হইয়া থাকে। এ দুইটি কথাই আমরা একেবারে অস্বীকার করি না। তবে বাস্তবিক পক্ষে জগতে এরূপ ঘটনা কদাচিৎ হইয়া থাকে। স্বামী রঘুবরানন্দের ‘গুরুতত্ত্ব ও গুরুগীতা’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad