Type Here to Get Search Results !

পণ্ডিতপ্রবর জ্যোতির্ময় নন্দের জ্যোতির্ময় রচনাঞ্জলি’ অমৃতকথা

পণ্ডিতপ্রবর জ্যোতির্ময় নন্দের জ্যোতির্ময় রচনাঞ্জলি’ অমৃতকথা

আর্যদের অখিল শাস্ত্রের মূল বেদ। বেদ বা শ্রুতি দুইভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগকে কর্মকাণ্ড ও অন্তভাগকে জ্ঞানকাণ্ড বলে। বেদের এই অন্তভাগের নাম। উপনিষৎ। এই উপনিষৎ বা শ্রুতিসমূহকে অবলম্বন করিয়া বেদান্ত নামক বিদ্যার গ্রন্থের সৃষ্টি হইয়াছে। বেদের অন্তভাগ উপনিষদের উপর প্রতিষ্ঠিত বলিয়া বেদান্ত নাম হইয়াছে। ভারতবাসী আর্যদেব জীবনসর্বস্ব তিনটি প্রস্থান সনাতন ধর্মের প্রধান স্তম্ভস্বরূপ। এই তিনটি ধ্রুবতারাকে লক্ষ্য করিয়াই সংসার সাগরের যাত্রী মুক্তির পথে প্রস্থান করেন। তিনটি প্রস্থানের মধ্যে প্রথমটি শ্রুতিপ্রস্থান বা উপনিষৎ, দ্বিতীয়টি ন্যায় প্রস্থান বা বেদান্তদর্শন, তৃতীয়টি স্মৃতি প্রস্থান বা শ্ৰীমদভগবদ্গীতা। গীতা স্মৃতিপ্রস্থান হইলেও শ্রুতিপ্রস্থান অপেক্ষা ইহার সম্মান ও উপযােগিতা কোনও অংশেই কম নহে। কারণ গীতা সমস্ত উপনিষদের সার। আচার্যপ্রবর শঙ্কর গীতার ভায্যে বলিয়াছেন—“তদিদং গীতাশাস্ত্রং সর্ববেদসারসংগ্রহভূতম”। ভারতের খ্যাতনামা আচার্যগণ সকলেই উপনিষৎ ও বেদান্তদর্শন সহ গীতারও ভাষ্য রচনা করিয়া গিয়াছেন।

তারপর দেশ-বিদেশের কত মনীষী যে গীতার টীকা, টিপ্পনী বিবৃতি ও অনুবাদ প্রভৃতি নানা ভাষায় করিয়াছেন তাহার সীমা সংখ্যা নাই বলিলেও অত্যুক্তি হইবে না। ভারতবর্ষের প্রাচীন ও সর্বজনমান্য ইতিহাসগ্রন্থ শ্রীমহাভারতের মধ্যমণি এই গীতা। ভীষ্মপর্বের মধ্যে শ্রীভগবানের শ্রীমুখপদ্মনিঃসৃত এই সঙ্গীত কেবল ভারতবাসীর নহে—বিশ্ববাসীর অমূল্য সম্পদ ও মৃতসঞ্জীবনী সুধা। শ্রীঅর্জুনকে উপলক্ষ্য করিয়া বিশ্বমানবের কল্যাণের জন্য শ্রীভগবান্ এই মহাবাণী বলিয়াছেন। শ্রীঅর্জুন বিশ্বমানবের প্রতিনিধি। তাঁহার শােক, মােহ, প্রশ্ন ও সমস্যা প্রভৃতি বিশ্বমানবেরই। সেইজন্যই গীতা সর্বদেশের, সর্বকালের, সর্বমানবীয় মহাগ্রন্থ। পৃথিবীর যে কোনও ধর্মাবলম্বী গীতার অধিকাংশ মন্ত্রের তাৎপর্য নিজ নিজ ধর্মের অনুকূল ও অবিরােধী দেখিতে পান। তাই গীতা সর্বজনমান্য বিশ্বধর্মগ্রন্থ হইয়া নিজের অসামান্য মহিমায় বিরাজ করিতেছেন।

শ্রীশ্রীভগবান ব্রজলীলায় যে বংশীগীত গাহিয়াছিলেন, পরাভক্তির অধিকারিণী এবং অনন্যশরণা কেবলব্রজগােপীরাই সেই গীতশ্রবণের যােগ্যতালাভ করিয়াছিলেন। অতিবিরল সেই শ্রেণীর অনন্যভক্তগণ চিরকালই শ্রীভগবানের বেণুধনি শ্রবণ করেন। অন্য কোনও ব্যক্তি সেই অপ্রাকৃত পরম গীত শুনিবার সৌভাগ্য পান না। কিন্তু করুণাময় ভগবা তাঁহার কুরুক্ষেত্র লীলায় আর একপ্রকার গীত গাহিয়া তাহাতে বিশ্বের সকল লােকেরই শ্রবণের অধিকার দিলেন। এই অপূর্ব গীত প্রকাশ করিয়া সকল শ্রোতাকেই ক্রমশঃ তাঁহাকে পাইবার একমাত্র উপায় পরাভক্তিলাভের কৌশল শিক্ষা করার সুযােগ দান করিলেন। কর্মী, জ্ঞানী, যােগী, ভক্ত— সকল শ্রেণীর ঈশ্বরবিশ্বাসী লােকই এই মধুর গীত পাঠ ও শ্রবণ করিয়া পরমানন্দ লাভ করিয়া আসিতেছেন। এমনকি নিরীশ্বর নৈতিক ব্যক্তিগণও গীতার মধ্যে নীতিশাস্ত্রের প্রকৃষ্ট উপদেশ দেখিয়া বিস্মিত হন। শ্রীভগবান যাহা গান করিলেন তাহা উপনিষদেরই সার কথা। উপনিষৎ স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ। তাই উপনিষদের বিশেষণ হইয়া গীতা শব্দও স্ত্রীলিঙ্গে প্রযুক্ত হইয়া থাকেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad