Type Here to Get Search Results !

স্বামী নিরাময় নন্দজী মহারাজ অমৃতকথা

স্বামী নিরাময় নন্দজী মহারাজ অমৃতকথা

শ্রীরামকৃষ্ণদেব আসার পর আমরা দেখতে পাচ্ছি কত নতুন তীর্থ ফুটে উঠছে। আগে কি ছিল—জয়রামবাটি, বেলুড়, কাশীপুর, উদ্বোধন, বলরাম মন্দির তীর্থ? দেশ বিদেশ থেকে সবাই এগুলি দেখতে আসেন, এবং এরকম করে সব তীর্থে পরিণত হয়ে গেল শ্রীরামকৃষ্ণের স্পর্শে। “তােমার জীবনে অসীমের লীলাপথে। নৃতন তীর্থরূপ নিল এ জগতে।”তীহ কুবন্তি তীর্থানিযদি কোন তীর্থের তীর্থত্ব লােকে না বুঝতে পারে, সে জন্যই মহাপুরুষরা শ্রদ্ধাসহ তীর্থে তীর্থেভ্রমণ করেন এবং অবতারকল্প মহাপুরুষেরাও তীর্থে যান। শ্রীরামকৃষ্ণও গেছেন। দেওঘর, কাশী, বৃন্দাবন ও প্রয়াগ। যাননি তিনি বিশেষ করে গয়া ও পুরী। এ দুটি ক্ষেত্রে চৈতন্যদেব গিয়েছিলেন। মা ঠাকুরের ছবি নিয়ে গিয়ে জগন্নাথ দর্শন করিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। এই ভাবে তীর্থ গড়ে ওঠে। আর মন্দির যে বলা হল, মানুষ যদি নিজের ভেতরে ভগবানকে অনুভব করে, দেখে, তার নিজের দেহটা মন্দির হয়ে যায় এবং তখনই তার শক্তি হয়, যে অপরের ভেতরেও ভগবানকে অনুভব করতে পারে। এরই প্রতীক আমরা বাইরেও দেখতে পাই। বাইরের দিক থেকে কোন একটি বাড়ী প্রতীক হয়ে ওঠে। কারণ সেখানেও আমরা দেখতে পাই ভগবানের আবির্ভাব। ছুটে যাই পুরী, কাশী, গয়া, বৃন্দাবন। তেমনি আজকাল লােকেরা সব শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে জড়িত যে সব জায়গা, সেখানে ছুটে আসছে। একটা কিছু পেতে চায়। তারা জানে এই স্থানের সঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণের পুণ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। দ্বিতীয়তঃ তারা নিজেরাও কিছু না কিছু অনুভব করে। যেখানে প্রত্যক্ষ ভগবৎ সত্তা আছে—তাই তীর্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু শ্রীরামকৃষ্ণ মর্ত-দেহে থাকা কালেই কীভাবে এই ভগবৎ সত্তা সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত হল—একবার চিন্তা করে দেখুন। বলরামবাবু এলেন কোঠার থেকে এখানে। তার বাবা নিয়ে এলেন। কিন্তু দীর্ঘকাল উড়িষ্যায় থাকার দরুণ জগন্নাথ প্রভুর প্রতি তার খুব একটা অনুরাগ। তিনি এখানে ঠাকুর জগন্নাথকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। এই বাড়ীতে রথযাত্রাও করেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ পুরী যাননি। কিন্তু পুরী-লীলার কিছুটা এখানে পাই রথযাত্রার সময়। নিজেও বলেছেন, “বলরামকে ও মাষ্টারকে দেখেছিলাম মহাপ্রভুর সংকীর্তনে।” তিনি দেখেছিলেন পঞ্চবটীর কাছে। বললেন, তােমাদের দেখেই চিনেছি যে তােমরা চৈতন্যদেবের সঙ্গে ছিলেন। তার ভক্ত ছিলেন।” সেই ভক্তিই ওঁদের ধীরে ধীরে শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে নিয়ে এল এবং তারা বুঝলেন, চিনলেন, যে তিনি এসেছেন, যুগে যুগে যিনি ধর্মস্থাপন করতে আসেন, ভক্তি ভক্ত আস্বাদন করতে আসেন। অতঃপর শ্রীরামকৃষ্ণ এই বলরাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে কলকাতাকে জয় করেছিলেন। অবশ্য নরেন্দ্রের মতাে ছেলেকে তিনি সিমুলিয়াতে দেখেছেন, এখানেও নরেন্দ্র বহুবার এসেছে। বলরাম মন্দিরে একটি বড় ঘটনা সেটি হচ্ছে রামকৃষ্ণ মিশনের পত্তন। স্বামীজী সঙ্ঘ প্রসঙ্গে যে সব ঘােষণা করেছেন, সঙ্ পরিচালনার যে সব নিয়ম-কানুন রচনা করেছেন তা সবই এই বাড়ীতে বসে হয়েছিল।বলরাম মন্দিরে শ্রীরামকৃষ: শতবর্ষের আলােকে গ্রন্থে সংকলিত স্বামী নিরাময়ানন্দজী মহারাজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad